একজন আদর্শ বাবা হতে…
শৈশবের উচ্ছলতা আর তারুণ্যের উদ্দীপনা পেরিয়ে প্রতিটি পুরুষই জীবনের এমন এক পূর্ণতায় এসে পৌঁছান, যেখানে তার বংশধারা এগিয়ে নিতে আগমন ঘটে এক নতুন প্রাণের—যাকে কেন্দ্র করেই তারপর থেকে আবর্তিত হয় তাঁর জীবনের সকল ভালোবাসা ও ত্যাগ।
প্রকৃতির চিরায়ত নিয়মে একজন পুরুষ সহজেই জন্মদাতা হয়ে উঠতে পারলেও সন্তানের কোমল মানসিক বিকাশ, সৎ চরিত্র গঠন ও দ্বীনি চেতনায় গড়ে তোলার মহান দায়িত্বে সফল হয়ে ‘আদর্শ বাবা’ হয়ে উঠতে পারা যথেষ্ট কঠিন বিষয়।
একজন আদর্শ বাবা হতে পারার ১৫টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো —
১। সন্তান পরিচর্যা ও কেবল লালন-পালনের পার্থক্য বুঝতে সক্ষম হন।
২। আদরের সাথে শাসনের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখেন।
৩। নিজের উত্তম আচরণ দিয়ে সন্তানের সামনে অনুকরণীয় উদাহরণ তৈরি করেন।
৪। অন্যদের সামনে সন্তানকে অপমান না করে অনুরোধের সুরে কথা বলেন।
৫। সন্তান প্রতিপালনে স্ত্রীর সাথে একই দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখেন।
৬। সন্তানের সামনে তার মায়ের সাথে সবসময় সুসম্পর্ক ও সম্মান বজায় রাখেন।
৭। রাগের মাথায় তাড়াহুড়ো করে সন্তানকে কোনো শাস্তি দেন না।
৮। সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেন এবং পরিবারের কাজে তার মতামত নেন।
৯। সন্তানকে কখনো অন্য কোনো বাচ্চার সাথে তুলনা করেন না।
১০। সন্তানের ভুলের সমালোচনা করেন, তার ব্যক্তিত্বের নয়।
১১। ফলাফলের চেয়ে সন্তানের নিরলস চেষ্টার বেশি মূল্যায়ন করেন।
১২। নিজের ভুল হলে সন্তানের কাছে নিঃসংকোচে ক্ষমা চেয়ে নেন।
১৩। ডিভাইস আসক্তি কমিয়ে সন্তানের মাঝে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন।
১৪। সন্তানের অন্তরে রবের প্রতি কেবল ভয় নয়, বরং গভীর ভালোবাসা গেঁথে দেন।
১৫। সন্তানের যেকোনো কৌতূহলী প্রশ্নে বিরক্ত না হয়ে সঠিক উত্তর দেন।
একজন পুরুষ কীভাবে পরম মমতায় ও বিচক্ষণতায় সন্তানকে লালন-পালন করবেন এবং কীভাবে একটি সুন্দর ও আলোকিত পরিবার গঠন করবেন—এমন ৪৩টি গুরুত্বপূর্ণ নীতি সাহায্য করবে, যা আপনি পাবেন মিশরের প্রখ্যাত লেখক কারিম আশ শাযলীর চমৎকার বই ‘আপনি যখন বাবা’-এ।