তুচ্ছ বিষয়ে মাথা ঘামানোর আড়ালে
[১]
আমাদের চারপাশে এখন ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ নিয়ে ভীষণ হইচই।
১০০ গ্রাম টুথপেস্টে গড়ে মাত্র ১২৬টির মতো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া নিয়ে চারদিকে যেন হাহাকার পড়ে গেছে! অথচ আমরা হয়তো জানিই না যে—প্রতিদিন এক লিটার বোতলজাত পানি পান করতে গিয়েই শরীরে অন্তত ২ লাখ ৪০ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢোকাচ্ছি।
ভেজাল খাবার, কেমিক্যাল মেশানো কসমেটিকস, ফার্স্টফুডের কোটি কোটি জীবাণু, কীটনাশক আর শিল্পকারখানার রঙ—প্রতিদিন অনায়াসে গিলে ফেলছি কত বিষ! সেদিকে আমাদের কিন্তু বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা নেই, মাথাব্যথা কেবল কুলি করে ফেলে দেওয়া টুথপেস্ট নিয়ে!
সম্ভবত এটাকেই বলে—‘মশা ছাঁকতে গিয়ে উট গিলে ফেলা!’
[২]
আমাদের জীবননের বেশিরভাগ ক্ষেত্রই এখন এমন গেছে। খুচরো দুনিয়াবি হিসাব আর ছোটখাটো উদ্বেগ নিয়ে আমরা যতটা ব্যাকুল, বড় বড় বিষয় নিয়ে আমাদের ভাবনার যেন কিছুই নেই আর।
যেমন—বড় বড় গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের ছোটখাটো ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। অথচ, ছোট ছোট ত্রুটি নিয়েই আজ আমরা মেতে আছি।
জীবনের সামান্য বাহ্যিক ক্ষতি এড়াতে আমরা যতটা তটস্থ, ততটা ভীত-সন্ত্রসস্ত থাকি না সে সকল বড় গুনাহ নিয়ে যা নিশ্চিতভাবে আমাদের পরকাল ছারখার করে দেয়।
একদিন ইমাম আলি ইবনুল হুসাইন (রহ.) সিজদায় থাকা অবস্থায় তাঁর ঘরে আগুন লেগে যায়। আশপাশের মানুষ ভয়ে চিৎকার করে বলতে লাগল, “হে আল্লাহর রাসুলের বংশধর! ঘরে আগুন লেগেছে, উঠুন!” কিন্তু আগুন নিভে যাওয়া পর্যন্ত তিনি সিজদা থেকে বিন্দুমাত্র নড়লেন না।
পরে সবাই যখন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
“এমন ভয়াবহ আগুনের মধ্যেও আপনি সিজদায় কীভাবে শান্ত হয়ে রইলেন?” তিনি বিনীত কণ্ঠে উত্তর দিলেন, “আমাকে অন্য এক আগুন এই আগুন থেকে সম্পূর্ণ অমনোযোগী করে রেখেছিল!”
যেমন মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষেত্রে তুচ্ছ উৎস নিয়ে পড়ে না থেকে আমাদের মূল ও বড় বড় উৎসের বিষাক্ততা প্রতিরোধে নজর দিতে হবে, ঠিক তেমনই জাহান্নামের ভয়াল আগুন থেকে বাঁচতে হলে আমাদের প্রথম ও প্রধান কাজ হলো কবিরাহ গুনাহ থেকে নিজেদের সর্বাত্মক দূরে রাখা।
আর এক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করবে‘জাহান্নাম যেমন হবে’বইটি, ইন শা আল্লাহ।